১০ টি বেস্ট এন্ড্রয়েড অ্যাপস যা হয়ত আপনি এখনও ব্যবহার করেন নি ! (জুলাই ২০১৭)

এই টিউনটির হয়ত আলাদাভাবে কোন ভূমিকা করার প্রয়োজন হবেনা। এন্ড্রয়েড কি এবং এন্ড্রয়েড অ্যাপস কি এটা আমরা সবাই খুব ভালভাবেই জানি। আমি আজকে আপনাদের সাথে কয়েকটি বেস্ট এন্ড্রয়েড অ্যাপস শেয়ার করতে যাচ্ছি যা হয়ত আপনি এখনও ব্যবহার করে দেখেন নি। যদি এগুলোর মধ্যে এমন কোন অ্যাপ থাকে যা আপনি কখনও ইন্সটল করেন নি বা ব্যবহার করেন নি তাহলে আমি বলব আজই ইন্সটল করে দেখুন। আশা করি প্রত্যেকটি অ্যাপই ভাল লাগবে আপনাদের। এখানে লেখা সব অ্যাপসই আপনি প্লে স্টোরে পাবেন। আর এখন থেকে কয়েকটি করে বেস্ট এন্ড্রয়েড অ্যাপস নিয়ে একটি করে টিউন প্রত্যেক মাসে একবার করে করার ইচ্ছা আছে। দেখা যাক কতদুর কি করা যায়। এখন আর ভূমিকা না করে টিউনটি শুরু করা যাক। 🙂

Backdrops Wallpapers

প্রথমে শুরু করা যাক একটি অসাধারন ওয়ালপেপার অ্যাপ দিয়ে। ওয়ালপেপার অ্যাপসগুলো নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার থাকেনা কারন এটার নামেই বোঝা যায় এই অ্যাপ এর কাজ কি। এই অ্যাপ ব্যবহার করে আপনি প্রায় প্রত্যেকদিন কিছু নতুন নতুন অসাধারন ওয়ালপেপার পাবেন। প্রত্যেকটি ওয়ালপেপারই যথেষ্ট হাই কোয়ালিটির এবং ইউনিক। আপনি চাইলে ওয়ালপেপারটি আপনার ফোনের হোমস্ক্রিনে সেভ করে রাখতে পারবেন এবং চাইলে গ্যালারীতে ইমেজ ফাইল হিসেবে সেভ করেও রাখতে পারবেন। এছাড়া আপনি ক্যাটেগরি অনুসারেও নতুন নতুন ওয়ালপেপার খুজতে পারবেন। যেসব ওয়ালপেপার ভাল লাগবে সেগুলো আলাদাভাবে অ্যাপ এর ফেভারিট সেকশনে সেভ করে রাখতেও পারবেন এবং দেখতে পারবেন সেগুলো।

অ্যাপটি এখানে পাবেন।

  

Screener

এটি একটি স্ক্রিনশট অ্যাপ। স্ক্রিনশট অ্যাপ না বলে স্ক্রিনশট এডিট করার অ্যাপ বললে বেশি ভাল হয়। এই অ্যাপটার সাহায্যে আপনি আপনার ফোনে নেয়া স্ক্রিনশটগুলো অনেক সুন্দরভাবে এডিট করতে পারবেন। আপনার ডিভাইজের Mockup এর মধ্যে স্ক্রিনশট বসিয়ে অনেক সুন্দরভাবে আপনার স্ক্রিনশটটি উপস্থাপন করতে পারবেন। যারা অনেক বেশি স্ক্রিনশট নিতে পছন্দ করেন ফোনে এবং স্ক্রিনশট শেয়ার করতে পছন্দ করেন তাদের জন্য এই অ্যাপটি বেস্ট।

অ্যাপটি এখানে পাবেন।

  

Cornerfly

আপনি হয়ত লক্ষ্য করেছেন Galaxy S8 এবং LG G6 ফোনের স্ক্রিনের চারদিক অন্যান্য এন্ড্রয়েড ফোনের মত নয়। এই দুটি ফোনের ডিসপ্লে এবং স্ক্রিন দুটিই চারদিকের কোণা থেকে একটু গোল করে কাটা। এটিই ওদের নতুন ডিজাইন চয়েজ। এমন ডিসপ্লে হওয়ার কারনে মোবাইলের ডিসপ্লে আরো অনেক বেশি সুন্দর দেখায়। এই অ্যাপ এর সাহায্যে আপনি আপনার এন্ড্রয়েড ফোনেও এই একই কাজটি করতে পারবেন। অবশ্যই ফোনের স্ক্রিনের চারদিক কেটে গোল করতে পারবেন না, কিন্তু অন্তত ডিসপ্লে এর কোণা গোল করে রাখতে পারবেন যেটা প্রায় একই রকমই দেখাবে।

অ্যাপটি এখানে পাবেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Flynx

এই অ্যাপটি একটি ইন্টারনেট ব্রাউজার। কিন্তু ঠিক অন্যান্য সাধারন ইন্টারনেট ব্রাউজারের মত নয়। আপনি যখন আপনার ফোনে অন্য কোন অ্যাপ এর মধ্যে কোণ লিংকে ক্লীক করবেন তখন এই অ্যাপটির সাহায্যে ঐ লিংকটি মেসেঞ্জার এর চ্যাট হেড এর মত আলাদা একটি পপআপ উইন্ডোতে ওপেন হবে। উদাহরনস্বরূপ, আপনি যদি ফেসবুকে নিউজ ফিড বা ইন্সটাগ্রাম ফিড চেক করার সময় কয়েকটি লিংকে ক্লিক করেন, তাহলে প্রত্যেকটি লিংক আলদা আলাদা চ্যাট হেড এর মত পপআপ উইন্ডোতে লোড হয়ে থাকবে। এরপর আপনি যখন ইচ্ছা তখন পপআপ উইন্ডো ওপেন করে লিংকটি ভিজিট করতে পারবেন। এতে আপনার অন্যান্য কাজে কোন বাধা আসবে না। এটি যথেষ্ট টাইম সেভিং একটি অ্যাপ।

অ্যাপটি এখানে পাবেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Flud

এটি একটি টরেন্ট ডাউনলোডার। যারা টরেন্ট ডাউনলোড করতে  পছন্দ করেন এবং অনেক বেশি টরেন্ট ডাউনলোড করেন তাদের জন্য বেস্ট অ্যাপ এটি। এই অ্যাপটি এন্ড্রয়েডের অন্য যেকোনো টরেন্ট ডাউনলোডার থেকে অনেক ভাল। এন্ড্রয়েডে একটি টরেন্ট ডাউনলোডারে যেসব ফিচার থাকা উচিত তার প্রায় সব ফিচারসই আছে এই অ্যাপটিতে। Magnet Link সাপোর্ট, ব্রাউজার ইন্টাগ্রেশন, প্রক্সি সাপোর্ট, ব্যাকগ্রাউন্ড ডাউনলোড  এবং আরো অনেক ধরনের ফিচার আছে এই অ্যাপটিতে। এছাড়া অ্যাপটির ইউজার ইন্টারফেসও যথেষ্ট সুন্দর।

অ্যাপটির ফ্রি ভার্শন প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করতে চাইলে এখানে পাবেন।

আর অ্যাপটির পেইড, এড ফ্রি এবং ফুল ভার্শন চাইলে এখান থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

TagMusic

এটি একটি মিউজিক ট্যাগিং অ্যাপ। মানে মিউজিকের ট্যাগ এডিট করার জন্য ইউজ করতে পারবেন এই অ্যাপটি। মাঝে মাঝে অনেক গান বা কোন মিউজিক ডাউনলোড করার পরে গানের অ্যালবাম আর্টে অনেক সামঞ্জস্যহীন ছবি দেখা যায় এবং আরও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা যায় ফাইলের নাম, অ্যালবাম, Genre ইত্যাদি নিয়ে। এই অ্যাপটির সাহায্যে সহজেই গানের ট্যাগ এডিট করে এই ঝামেলা থেকে রেহাই পাবেন।

অ্যাপটি এখানে পাবেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Chrooma Keyboard

নাম শুনেই বুঝেছেন নিশ্চই, এটি একটি কিবোর্ড অ্যাপ। এটি প্রায় অন্যসব কিবোর্ড অ্যাপস এর মতই। প্রায় ৮০% গুগল কিবোর্ড অ্যাপ এর মত। কিন্তু এর সবথেকে স্ট্যান্ড আউট ফিচার হচ্ছে থিম। আপনি এই কিবোর্ডটি ব্যবহার করার সময় আপনি যে অ্যাপে কিবোর্ডটি ব্যবহার করছেন সেই অ্যাপ এর থিম কালার অনুযায়ী কিবোর্ড এর থিম কালারও বদলে যাবে। আপনি যদি ফেসবুক অ্যাপে থাকেন তাহলে কিবোর্ড এর রঙ হবে গাড় নীল, ফেসবুক মেসেঞ্জারে থাকলে হবে হালকা নীল, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জারে থাকলে কিবোর্ড এর রঙ হবে সবুজ। এছাড়া এই কিবোর্ডে বাংলা ফোনেটিক ল্যাঙ্গুয়েজও ইউজ করতে পারবেন রিদ্মিক কিবোর্ড এর মত। এছাড়া গুগল কিবোর্ড এর মত গ্লাইড টাইপিংও করতে পারবেন।

অ্যাপটি  এখানে পাবেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Airdroid

এই অ্যাপটি অনেকেই হয়ত কমবেশি চেনেন। এই অ্যাপটির সাহায্যে আপনি আপনার পিসি এবং ফোন এর মধ্যে যেকোনো ধরনের ফাইল ট্রান্সফার করতে পারবেন কোন ধরনের ক্যাবল বা কোন ধরনের তারযুক্ত সংযোগ ছাড়াই। কিন্তু এক্ষেত্রে আপনার পিসি/ল্যাপটপ এবং আপনার ফোনকে একই নেটওয়ার্কে কানেক্টেড থাকতে হবে। এই অ্যাপটি দিয়ে শুধুমাত্র ফাইল ট্রান্সফার ছাড়াও আরও কিছু কাজ করতে পারবেন। যেমন, স্ক্রিন শেয়ারিং, স্ক্রিন রেকর্ডিং, ফোনের ফাইলস এর ব্যাকআপ, ইন্টারনেট শেয়ারিং এবং আরও অনেক কিছু।

অ্যাপটি এখানে পাবেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Retro Music

মিউজিক প্লেয়ার তো সবাই চেনেন এবং ব্যবহারও করেন। এই মিউজিক প্লেয়ারটাতে আসলে তেমন কোন স্ট্যান্ড আউট ফিচার বা কোন অসাধারন ফিচার নেই। এই মিউজিক প্লেয়ারটির কথা লিখছি শুধুমাত্র এর অসাধারন ইউজার ইন্টারফেসের জন্য। এই মিউজিক প্লেয়ারটি একবার ব্যবহার করলে এর ইউজার ইন্টারফেস আপনার ভাল লাগবেই। এটার ইউজার ইন্টারফেসটি অনেকটা এন্ড্রয়েড স্টাইলের মিউজিক প্লেয়ার এবং আইফোনের অ্যাপল মিউজিকের ইউজার ইন্টারফেস একসাথে ব্লেন্ড করে তৈরি করা। এই অ্যাপটি নিয়ে আর তেমন কিছু বলার নেই।

অ্যাপটি এখানে পাবেন।

 

Polyforge

তালিকাটি শেষ করি একটি মজার গেম দিয়ে। অ্যাপস এর তালিকার সাথে এটাকে লিখছি কারন এটা ঠিক সাধারন ফাইটিং বা রেসিং এই ধরনের সাধারন গেম নয়। এটা অনেকটা টাইম পাস করার মত একটি অ্যাপ এর মত যদিও গেম ক্যাটেগরিতেই পড়ে। যাইহোক, এটা আমার দেখা ওয়ান অফ দ্যা বেস্ট Relaxing এবং মনঃসংযোগকারী গেম। এই গেমে আপনাকে শুধু স্ক্রিনে থাকে বিভিন্ন আকৃতির বস্তুটিকে চারদিক থেকে ছোট ছোট লিকুইড টাইপের বস্তু শুট করে ঐ আকৃতির বস্তুটিকে চারদিক থেকে কভার করতে হবে। আপনি যত বেশি কভার করতে পারবেন, তত বেশি লেভেল বাড়তে থাকবে এবং গেমটি আরো কঠিন হতে শুরু করবে। একবার যদি কভার করতে মিস করেন তবে ঐ লেভেলটি আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। গেমটি একবার খেলতে শুরু করলেই বুঝবেন এবং ভাল লাগবে। এছাড়া এই গেম এর সাওন্ড ইফেক্ট গুলোও অসাধারন।

গেমটি এখানে পাবেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ধন্যবাদ টিউনটি এতক্ষন ধরে ধৈর্য সহকারে পড়ার জন্য। আজকের টিউন এখানেই শেষ করছি। আশা করি প্রত্যেক মাসেই এমন একটি করে টিউন করতে পারব। টিউন সম্পর্কে কোন ধরনের প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই টিউনমেন্ট করে জানাবেন। ভাল থাকবেন। 🙂

Posted in Freelancing, Graphics, Marketplace, Online Earning.

Leave a Reply